ম্যাম সাহেব 🙂
লেখক আরফান চৌধুরী
পার্ট:-8
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে এলো
অবশেষে আজ আমাদের বিয়ে।সবাই কত আনন্দ করছে।অনেক আনান্দ আর উল্লাসের মধ্যে দিয়ে বিয়ে হয়ে গেছে। সবাই দলবেঁধে আসছে বিয়ের কনে দেখতে।নয়টার দিকে ঐশীকে বাসর ঘরে স্থানান্তর করা হলো।আর আমি বসে আছি সকলের সাথে।সবাই কত মজা করছে।
চাচাতো ভাবিরা বলছে,
আজকে দেওর আমার বিড়াল মারবে।ইত্যাদি আরো কত মজা করছে।কিন্তু আমার ভেতরটা পুরে যাচ্ছে।সবার কাছে এয় দিনটা আনন্দের হলেও আমার কাছে কষ্টের।এক একটা সেকেন্ড গেলেই বুকের ভেতর কেপে কেপে উঠছে।আমি যেন ঐশীকে হারাতে বসেছি।কারন মিমতো বিয়ের পরে চলে যাবে,আর আজকে তো বিয়ে হলো।সবাই কত মজা করছে।
সবাইকে খুশি রাখার জন্য,আর কাউকে সত্যি ঘটনা না জানানোর জন্য আমি মুখটায় একটা মিথ্যা হাসি নিয়ে আসছি।
ভাবিঃ তা দেবরজি রাত তো অনেক হলো,যাও গিয়ে কাজ শুরু করে দাও।বিড়ালটা মেরো
আমিঃ ধুর।বাজে কথা বলো ক্যান।
ভাবিঃ বাজে হলেওতো এটা আজকে করতে হবে।
আমাকে প্রায় ১২টার দিকে রুমে পাঠিয়ে দেওয়া হলো।রুমটা কত সুন্দর করে সাজানো,কত ফুল,সারা রুমটা ফুলের গন্ধে ভরে গেছে,কোনো ইলেকট্রনিক লাইট নেই,মোমবাতিতে রুমটা আলোকিত হয়েছে,কিন্তু এগুলো সব আবেগের বসে।কারন আমি রুম গেলেই,ঐশী আমাকে অপমান করবে।কত বড় বড় কথা শোনাবে।এগুলো ঐশী নেই।আমি ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম।ঐশী খাটের উপর বসে আছে।
বাসর রাত এয় দিনটা নিয়ে সবার কত স্বপ্ন থাকে।সবাই সেই বয়ঃসন্ধি কাল থেকে বাসর রাতের স্বপ্ন দেখে।আর আমিও সবার মতো দেখেছি।কিন্তু এখুনি অপমান শুনতে হবে।আর কে হলো আমার বউ,যাকে আমি ভালোবাসি,কিন্তু সে নাকি অন্য কাউরে ভালোবাসে। আমি ভিত হয়ে এক পা একপা করে এগিয়ে গেলাম।আজ একটা মধুয্য রাত আমি চাইনা কোনো ঝামেলা হোক তাই আমি একটা বালিশ নিয়ে ছোফায় শুতে যাচ্ছি।
ঐশীঃ এয় বালিশ নিয়ে কই যাও।
আমিঃ কেন ছোফায়!
ঐশীঃ কেন খাট নেই?
আমিঃ খাটে তো আপনি আছেন।.
ঐশীঃ তো কি হয়েছে।খায়ে আসো।
আমিঃ না থাক আপনি খাটে থাকুন আবার অপমান করবেন নাকি ।
এ বলে ছোফায় সুশে পরলাম
ঐশীঃ তোকে বললাম খাটে এসে শুতে।
(অনেকটা রেগে বললো)
আমি ওঠে গিয়ে খাটে বসলাম।
ঐশীঃ এখানে শুয়ে পর
আমিঃ কেন?
ঐশীঃ বেশি কথা না বলে যা বলছি তাই কর।
আমিঃ আচ্ছা।
আমি বালিশটা নিয়ে একদম খাটের গা ঘেসে শুয়ে পরলাম।ঐশী আমার থেকে দুইফিট দুরে।
ঐশীঃ বল অবশেষে বিয়েটা হয়ে গেলো।
আমিঃ হুম।কত স্বপ্ন ছিলো।সব মিশে গেলি প্রকৃতির নীল নিলীমাই।
ঐশীঃ আমি তো খুব তাড়াতাড়ি চলে যাবো।
আমিঃ কবে যাবে
ঐশীঃ পিয়ালকে বলেছি সে পাসপোর্ট তৈরি করে দেবে।
আমিঃ পিয়াল কে?
ঐশীঃ কে আবার আমার বয়ফ্রেন্ড,আমার কলিজা যাকে আমি অনেক ভালোবাসি(এটাও আমার নাম😉)
আমিঃ ওও।
ঐশীঃ হুম।নতুন করে মেয়ে দেখ বিয়ে করার জন্য।
আমিঃ আর বিয়ে বিয়ে মানুষের একবার হয়,আর আমারও একবার হয়েছে।
ঐশীঃ কেন আমি চলে গেলে কি তুই এভাবেই সিংগেল থাকবি?
আমিঃ কে বললো আমি সিংগেল।আমার তো একটা তুমি আছো।যদিও সাথে নেই তবুও মনে আছো,আর সবসময়ই থাকবে।
ঐশীঃ আমি কি তোর মনে আছি?
আমিঃ আছোই তো ।আর সারাজীবন ই থাকবে।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
ঐশীঃ আচ্ছা আমি তো তোকে ভালোবাসি নাই,আমার সাথে তোর তো তেমন কোনো সৃতি নেই,তো আমি কেন তোর মনে?
আমিঃ কে বললো তোমার সাথে আমার সৃতি নেই।সবথেকে বেশি সৃতি তো তোমার সাথে।মনে করে দেখ সেই ছেলেবেলা,মনে করো সেই রোমাঞ্চকর দিন গুলো।ওগুলো কিভাবে ভুলি বলো।ওগুলো আকড়ে ধরেই সারাজীবন পার করে দেবো।
ঐশীঃ তাই বুজি।তুই যে ভাবে কথা বলছিস তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে যাবি।
ঐশীঃ আচ্ছা বেশি কথা না বলে চুপচাপ ঘুমা।
আমিঃ আচ্ছা তুমি তো তোমার সেই ভালোবাসার মানুষের সাথে ভলে যাবে।তার সাথে সুখে সংসার করবে।আমার কথা কি তোমার মনে থাকবে।কয়েকবছর পর পর দেখতে এসো।হয়তো আসবে না।কারন আমি তো তোমার লাইফটা হেল করে দিয়েছি।চলে গেলে তো বেচে যাও।
তবে হঠাৎ একদিন এসেই চমকে যাবে,তোমার একাকৃত্ত
আমাকে হাসতে সেখাবে।আমি সবার সাথে থাকবো।কিন্তু সবাই নিশ্চুপ থাকবো,কেউ কারর সাথে কথা বলবো না।
ঐশীঃ কোথায় থাকবি?
আমিঃ কোনো এক কবরস্থানে হাজারো লাশের ভিরে।
ঐশীঃ গানজা টানছোস চুপচাপ ঘুমা বেশি কথা না বলে।
সারাদিন প্রচুর ধকল গেছে।আমি চোখ বন্ধ করে ঘুমাতে চেষ্টা করলাম কিন্তু ঘুম যে আসতে চাইছে না।কিভাবে আসবে ঘুম,যাকে ভালোবাসি সেই তো আমার থেকে দুরে চলে যাবে।একই খাটে শুয়ে আছি তবুও কত ব্যবধান। কথা গুলো ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলাম।
সকালে অপ্রকাশিত ভাবে আমার ঘুম ভেঙে গেলো।আমি ঐশীকে উপর শুয়ে রয়েছি।ঐশীকে দুই হাত দিয়ে জরিয়ে।ঐশী আমার দিকে তাকিয়ে আছে।রেগে আছে মনে হয়।
আমি তারাতারি ঐশীকে ছেড়ে দিলাম।
আমিঃ sorry,sorry I'm sternly sorry,
আসলে আমি না বুজে,
ঐশীঃ ছাড়লি কেন?.সারারাত তো শান্তিতে ঘুমাতে দেসনাই,কালকে রাগে তো খুব করে একদম খাটের একপাশে ছিলি,দেখাচ্ছিলি যে তুই কত চরিত্রবান।তো রাতে আমার সাইডে এসে আমার সাথে লুচ্চামি করতে চাইছিলি।লুচু ছেলে কোথাকার।
আমিঃ আমি হয়তো ঘুমের মধ্যে করেছি,কিন্তু বিশ্বাস করো আমি জেগে থাকলে তোমার দিকে তাকালাম পযন্ত না।তাই তো আমি ছোফায় থাকতে চাইছিলাম।
ঐশীঃ আমারই ভুল খালকেটে আমিই কুমির নিয়ে আসছি।সেজন্য আর কিছু বলতে পারছি না।
আমিঃ প্লিজ কিছু মনে করো না,আমি না জেনে এমনটা করেছি।
ঐশীঃ লুচ্চামি করে আবার ক্ষমা চাস।
আমিঃ আমি সত্যি বলছি আমার এতে কোনো হাত নেই ।
ঐশীঃ আচ্ছা যা ঠিক আছে,কি আর বলবো,যতই হোক তুই আমার বিয়ে করা স্বামী,যদিও খুব তাড়াতাড়ি চলে যাবো।
ঐশী চলে গেল ফ্রেশ হতে ।এটা আমি কি করলাম।আচ্ছা আমার ঘুমতো খারাপ ছিলো না।কিন্তু একি হতে গেলো।এখন ঐশীর সামনে মাথা নিচু হয়ে গেলো।
আমি খাটে মন খারাপ করে বসে রইলাম।কিন্তু ডেসিনটেবিলের আয়নায় চোখ পড়তেই অবাক।
আমি তারাতারি আয়নায় কাছে সরে গেলাম।আমার ঠোঁটে লিপস্টিক এর দাগ কেন?আর মুখেও আছে।এটা তো কারর ঠোঁটের দাগ।কেউ কিস করলে যেমন দাগ হয়।ঠোটটা লাল হয়ে আছে।বেশ লাল লিপস্টিক।কিন্তু আমি তো 🤔।তখন ঐশী বাথরুম থেকে বের হলো।
আমিঃ আমার মুখে লিপস্টিক এর দাগ কেন?
ঐশীঃ আআআমি কিভাবে জানবো।তোর মতো লুইচ্চার ঠোটে লিপস্টিক এর ছাপ কিভাবে?
তুই কি ভাবছি,আমিই তোর ঠোটে তোর সমস্ত মুখে কিস করেছিস?
তোকে আমি কোন দূঃখে কিস করতে যাবো।
আমিঃ তাহলে লিপস্টিক আসলো কোথা থেকে?
ঐশীঃ আমি জানিনা।আমার কাছে কেন জ্ঞিগেস করছিস,যাহ গিয়ে ধুয়ে ফেল।কেমন বাজে দেখাচ্ছে,।
আজব তো কি ভাবে লাগলো লিপস্টিক?
আমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।ফ্রেশ হয়ে বাহিরে এসে দেখি রুমে সবাই এসেছে।ঐশীর চারপাশে সবাই বসে গল্প শুরু করে দিয়েছে।
ভাবিঃ তা দেবরজি রাত কেমন কাটলো,বিড়াল মারছো ত?
আমিঃ হুম😞।
আমি আর ওখানে থাকলাম না।ঐশী আছে।আমি ওর সামনে যেতে লজ্জা পাচ্ছি।
বাহিরে গিয়ে মেহমানদের আপ্যায়ন করছি।ব্যাস্ততার মধ্যে দিয়ে পার হলো আজকের দুপুর।
বিকাল বেলাতে আমি বেলকনিতে মন খারাপ করে দারিয়ে আছি।যানিনা কিসের কষ্ট।খুব তারাতারি ঐশী চলে যাবে।আর কয়েকটা দিন তারপর আমি মিমকে হারিয়ে ফেলবো।
পেছন থেকে
ঐশীঃ ওই লুচু কি ভাবছিস?
আমিঃ ককই কিছু না।
ঐশীঃ মিথ্যা বলিস না ভালো করেই দেখছি তুই মন খারাপ করে কি চিন্তা করছিলি?
আমিঃ কই কিছু না।আমি কেন চিন্তা করতে যাবো?
ঐশীঃ আমার সাথে মিথ্যা বলিস।আমি দেখলাম তুই মন খারাপ করে দারিয়ে আছিস?
আমিঃ ধুর আমি কেন মন খারাপ করতে যাবো।আমি তো সবথেকে সুখি মানুষ😞।
ঐশীঃ ওই লুচু কি হয়েছে রে?মন খারাপ করে আছিস কেন বলনা আমায়।
আমিঃ বললাম তো মন খারাপ করে নেই।
ঐশীঃ দুপুরে খায়ছিস?
আমিঃ হুম।
ঐশীঃ আবার মিথ্যা কথা।তুই দুপুরে কখন খায়লি?
আমিঃ খেয়েছি।
ঐশীঃ মিথ্যা কথা বলিস না।আমি তোকে খেয়াল করেছিলাম,তুই মোটেও খাসনাই! তো মিথ্যা বললি ক্যান?
আমিঃ খেতে ইচ্ছে করছে না।
ঐশীঃ কেন খেতে ইচ্ছে করছে না।চল এখুনি খেতে হবে।
ঐশী জোর করে আমাকে টেনে নিয়ে গেলো,খাওয়ার জন্য।
ঐশী নিজে আমাকে খাবার বেড়ে দিলো।
ঐশীঃ খেয়ে নে তারাতারি।
আমিঃ আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।আমি খাবো না।
ঐশীঃ ভালো মুখের পাত্র তুই না।বাজে কথা শুনতে চাস?চুপচাপ খেতে নে!
আমারও খুদা লাগছিলো তাই খেয়ে নিলাম।তারাতারি খেয়ে ছাদে দারিয়ে আছি।ঐশী আবার আসলো।
ঐশীঃ আম্মু নিচে ডাকে।
আমি নিচে গেলাম।
আমিঃ কি হয়েছে?
আম্মুঃ মেহমানরা সবাই চলে যাচ্ছে,যাও গিয়ে বিদায় যানাও।
আমি গিয়ে সকল আমন্ত্রিত অথিতিদের বিদায় দিতে লাগলাম। রাত হয়ে গেলো।
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি রুমে যেতে লাগলাম।রুমে ঐশী আছে তাই সোজা ছাদে গেলাম।
কিছুক্ষণ পর ঐশী ছাদে আসলো।আমি ঐশীকে ভুল বার জন্য যত দুরে থাকছি।ও নড়েচড়ে সেই আমার পাশেই চলে আসছে।
ঐশীঃ একা একা কি করা হচ্ছে?
আমিঃ কিছু না।
ঐশীঃ মন খারাপ কেন রে তোর?
আমিঃ তুমি চলে যাবে কবে?
ঐশীঃ ঠাসসসস।ঠাসসসস(আচমকা আমার গালে দুটো থাপ্পড় মেরে দিলো)
আমি তো গালে হাত দিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম।হঠাং মারলো কেন?
ঐশীঃ বুজতে পারছিস না তো যে তোকে কেন মারলাম?
আমিঃ আমি এখন কি করলাম?
ঐশীঃ বুজতে পারবি না।তোর তো সে জ্ঞান টুকু নেই।তুই আসলেও গাধা,কিছুই বুজিস না।
আমিঃ আমি তো বুজতেই পারছি না,কি করলাম এখন আমি?মারলে কেন?
ঐশীঃ তোকে তো আরো মারা উচিত।সারাদিন পিটানো উচিত।মেরে রেস নিয়ে আবার মারতে হবে।তুই কি কিছুই বুজিস না?
আমিঃ কি?না বললে কিভাবে বুজবো।
ঐশীঃ আরফান আমি তোকে ভালবাসি,এটা তুই কি বুজিস না?কেন রে তুই কি আমাকে একটুও বুজতে পারিস না?
কান্না করে দিলো।আর ঐশীর কোথায় বেশ অবাক হলাম।ঐশী আমাকে ভালোবাসে?
আমিঃ তুমি তো বলোনাই যে আমাকে ভালোবাসো।তুমি না বললে কিভাবে বুজবো।
ঐশীঃ উমম কচি খোকা,তোকে কি ঢোল পিটিয়ে মাইক বাজিয়ে বলতে হবে যে তোকে ভালোবাসি?তুই আমার ব্যাবহার দেখে বুজিস না যে আমি তোকে ভালোবাসি।
আমিঃ না বললে কিভাবে বুজবো ব্যাবহার দেখে?
ঐশীঃ কুত্তা!তুই বুজিস না ,আমি এখান কেন আসলাম।শুধু তোর জন্য,আমি তো আম্মুদের সাথে আরোও কয়েকদিন পর আসতে পারতাম,কিন্তু তোকে দেখার জন্য আমি আর থাকতে পারছিলাম না।তাই তাদের আগে আমি একা চলে আসলাম,শুধু তোর জন্য,আর তুই নিজের পরিচয় গোপন রাখলি।আর আমাকে আপনি আপনি বলা শুরু করলি,কি আমি নাকি ম্যেম সাহেব।তোকে বারবার ইঙ্গিত দিই যে তোকে আমি ভালবাসি,কিন্তু তুই তো কচি খোকা কিচ্ছু বুজিস না।রাতে গিয়ে তোর রুমে কান্না করা,তোকে দেখবার জন্য রাত ২টার সময় ছুতোনাতায় বারবার ছাদে আসা,এগুলো কি ভালোবাসা না আরফান?আর কতভাবে বোজাতে হবেরে তোকে?
আর কালকে রাতে আমি তোকে কিস করি তাও বুজিস না যে কে করলো।ওই ঘরে তুই আর আমি ছিলাম,তো তোকে কি ভুত এসে কিস করবে?
তুই চাস. আমি চলে যাই,ঠিক আছে চলেই যাবো একদম আটকাবি না আমায়।
ঐশী কান্না করতে করতে নিচে চলে যেতে লাগলো।কিন্তু এবার আর ভূল করলাম না।আমি ঐশীর হাত ধরে একধাক্কায় নিজের বুকের ভেতর ধরে নিলাম।শক্ত করে জরিয়ে ধরে রইলাম।
ঐশীঃ কুত্তা,হারামী,শয়তান,গাধা,ছাড় আমাকে কেন ধরলি আমাকে?
আমিঃ অনেক ভুল করেছি আর না।আর কোথাও যেতে দেবো না।
ঐশীঃ ছাড়লি আমাকে আমি চলেই যাবো।
আমিঃ আর যেতে দেবো না।সারাজীবন আগলে ধরে রাখবো ।
শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছি,ঐশী নিজেকে ছাড়াতে লাগলো,কিন্তু আস্তে আস্তে নিজেকে সপে দিল আমার বুকে।ঐশীও আমাকে শক্ত করে চেপে ধরে রইলো।ঐশী ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করে যাচ্ছে।
আমিঃ এয় কান্না করো কেন,এবারতো শুধু ভালোবাসবে।
ঐশীঃ তুই কত বদলে গেছিস।
আমিঃ মোটেও না আমি ঠিক আগের সেই দুষ্টু আরফান আছি😔।
ঐশীঃ তাহলে বিদেশ থেকে আসলেই কেন বললি না যে ভালোবাসিস।
আমিঃ চলো দোলনায় গিয়ে বসি।
আমি গিয়ে ছাদে দোলনায় বসলাম।আর ঐশী আমার বুকে ভেতর গুটি মেরে শুয়ে আছে।আমি ঐশীকে শক্ত করে ধরে ধরে দোলনার রেলিং এ হেলান দিয়ে আছি।
আমিঃ যানো ঐশী,তুমি যেদিন আসছিলে আমার ইচ্ছে করছিলো দৌড়ে এগিয়ে জরিয়ে ধরে বলতে ভালোবাসি তোমায়,কিন্তু ভয়ে বলতে পারিনি,কারন তুমি বিদেশ থেকে আসছো।তুমি কি আমার কথা মনে রাখছো।
ঐশীঃ ধুর বোকা ছেলে।আমার মনে তুই সবসময় আছিস।
আমিঃ তাহলে সেদিন প্রপোজ করেছিলাম।তা তুমি রাজি হওনি কিল্লাই?
ঐশীঃ ছোট্ট বেলাতে,আমার কোনো জিনিস যদি তোর পছন্দ হতো তুই নিয়ে নিতিস আমি না দিলে জোর করে ছিনিয়ে নিতিস।কিন্তু তোর আমাকে পছন্দ হলো কেন জোর করে নিয়ে নিলি না আমাকে।জোর করে নিয়ে নিবি তো আমাকে।
আমিঃ তারমানে জোর করে নিতে হবে তোমাকে।
ঐশীঃ হুম।খুব জোর করে নিয়ে নিবি আমায়।কোথাও যেতে দিবি না।
সারাজীবন ঠিক এভাবে বুকের ভেতর আগলে রাখবি।তা না হলে ছোট্ট বেলাতে যেমন পিটাইতাম ঠিক তেমনই পিটাবো,ঐশীর মাইর মনে আছে তো।
আমিঃ মনে থাকবে না।এখনি তো দুইপিস দিলে।
ঐশীঃ আমার পাগলটার কি খুব লাগছে।আসো আদর করে দিই।উম্মমমমমমমমমমমম্আহ।ব্যাথা কমে গেছে(আগলা পিরিত)
আমিঃ একদম। এবার চুপ করে ঘুমাও।
ঐশীঃ এয় রুমে চলো।রাত হয়েছে।রাতে ছাদে থাকতে নেই।
আমিঃ আচ্ছা চলো।
ঐশীঃ আমি যেতে পারবো না।আমাকে কোলে তুলে নিতে হবে🙈🙈।
আমি আচ্ছা ঠিক আছে আমারইতো বউ আমি কোলে করেই নেবো।
তো পর্বটা কেমন লাগলো,সবাই কমেন্ট এর মাধ্যমে জানিয়ে দিন।
আপনারা সাপোর্ট করলে আমার লিখতে ভালো লাগে।লেখায় একটা রস আসে।
আপনাদের অনুপ্রেরণা আমাকে গল্প লিখতে সাহায্য করে।
ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর পেজ টা ফলো করে দিবেন সবার আগে গল্প পেতে...!!
#চলবে.......