অজানা সুখ পর্বঃ ৩

 অজানা সুখ

পর্বঃ ৩

কলমেঃ আয়েশা সিদ্দিকা (লাকী)

অজানা সুখ


রুম থেকে বের হতেই ননদ বলে উঠলো, 

- আরে ভাবি তুমি এতো সকালে কেনো উঠে এলে? 

ননদ ড্রইং রুমের সোফাতে বসে পড়ছিলো। ওর এমন কথাতে আমি একটু বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে গেলাম কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। আমতা আমতা করতে করতে বললাম, 

- নামাজ শেষ করে বাইরে তাকিয়ে দেখলাম প্রায় সকাল হয়ে গেছে আর রান্না রুম থেকে আওয়াজ শুনছিলাম তাই ভাবলাম মা একা একা কি না কি করছে! এটা ভেবেই উঠে আসা।

- যা করার মা ই করবে যাও তুমি রুমে গিয়ে রেস্ট নাও। কাল তোমার উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে।

- আচ্ছা, এসেছি যখন তখন দেখেই যাই মা করছে?

কথা গুলো বলতে বলতে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াতেই মা বেরিয়ে এসে বললো,

- তুমি নতুন বউ তোমাকে আর রান্নাঘরে গিয়ে দেখতে হবেনা যে মা কি করছে। যাও তুমি উপরে যাও নাস্তা বানানো হলে আমি তোমাকে ডাক দিবো। 

- মা, আমি আপনার সাথে হাতে হাতে একটু সাহায্য করি? 

- না, তোমার এখন কিছুই করতে হবে না। তোমার করার দিন সামনে বহু পড়ে আছে। আমি যখন বুড়ো হয়ে যাবো তখন তুমিই তো আমাকে সব করে খাওয়াবে! 

আমি শাশুড়ী মায়ের ওই নিস্পাপ মুখের দিকে আছি। কতো মায়া ভরা ওই মুখ!

অথচ কাকী একদিন খুব অসুস্থ থাকায় সকালে উঠতে দেরি হয়েছিলো দেখে দাদী কতো কথাই না শুনিয়েছিলো। শুধু কথা শুনিয়ে এতে তিনি খ্যান্ত হননি। কাকাকে দিয়ে মাইর পর্যন্ত খাওয়াইছিলো। যদিও মা সকালে উঠে সব কাজ করে দিয়েছিলো তবুও ব্যাচরি ছাড় পাইনি তাদের কাছে। কাকার হাতে মাইর খাওয়ার একটাই কারন ছিলো কাকী শুধু দাদীকে বলেছিলো, 

- আমরা বাড়ির বউরাও তো মানুষ নাকি! আমাদেরও রক্ত মাংস আছে, অসুস্থ বা শরীর খারাপ হতে পারে! ইঞ্জিন চালিত যন্ত্র তো আর না আমরা, যে আমাদের অসুর বিসুখ হতে পারেনা! যন্ত্রও চলতে চলতে একটা সময় নষ্ট হয়ে যায় এবল তাদের মিস্ত্রি দেখাতে হয় আর সেখানে তো আমরা মানুষ। 

কথাগুলো বলার সময় মাকে দেখেছি বার বার কাকীর মুখটা চেপে ধরছিলো আর বলছিলো,

- চুপ করো সাইদের মা। আর কথা বাড়াইস না। 

কিন্তু কেনো যেনো সেদিন কাকীর খুব রাগ উঠে গেছিলো তাই নিজেকে সামলাতে না পেরে কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে দিয়েছিলো। কথা গুলো আনমনে ভাবতে ভাবতে চোখ দুটো ভিজে গেছিলো।

- ঋতু! মা কাঁদছো কেনো? কি হয়েছে বউমা? আমার কোনো কথায় কি তুমি কষ্ট পেলে?

- মা আপনি কি যে বলেন! আপনাদের এতে ভালোবাসা দেখেই কেঁদে ফেলেছি। 

শাশুড়ী মাকে বলতে পারলামনা যে, আমার চোখের সামনে কিছু মানুষের নির্দয় আচরণ গুলো ভেসে উঠছিলো। আমি আর ওখানে না দাঁড়িয়ে উপরে চলে এলাম। বারান্দায় বসে গান শুনছিলাম আর ভাবছিলাম। সব কিছু মিলিয়ে হয়তো যে দিন গুলো আমার মা কাকীরা সহ্য করেছে সেগুলো হয়তো আমাকে সহ্য করতে হবেনা। এমন সময় শাশুড়ীর মায়ের ডাক শুনতে পেলাম। বারান্দা থেকে উঠে এসে দেখি সুমন উঠে ফ্রেস হয়ে গিয়েছে। সুমন বললো,

- চলো নিচে যাই মা ডাকে। 

-হুম চলো। 

বলেই দুজন নিচে নামলাম। শাশুড়ী ননদ আর কিছু আত্মীয় স্বজন ডাইনিং টেবিলে বসে আছে নাস্তা করার জন্য। আমাকে দেখে মা বললো, 

- এসো বউমা নাস্তা করতে হবে তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।

- মা আমি সবাইকে নাস্তা দেই?

- তুমি দিবে! পারবেতো?

- হ্যাঁ মা পারবো।

- আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে সবাইকে বেড়ে দাও। 

আমি সবাইকে খুশি মনে নাস্তা বেড়ে দিয়ে টেবিলে এক পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম। সবার নাস্তা শেষ হলে তবেই আমি নাস্তা করবো। কারন মা কাকীদের তো এটাই দেখেছি যে বাড়ি সবার খাওয়া দাওয়া শেষ হলে তবে উনারা দুই বউ খেতে বসতো। আমিও সেটা ভেবেই এক পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। 

চলবে...


অজানা সুখ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

Smartwatch

Random Products